ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনেও ভূমিকা চায় যুক্তরাষ্ট্র! ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক

Iran New Leader Election Trump Statement
ইরানের নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে ট্রাম্প


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেরও ভূমিকা থাকা উচিত। তবে তার এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন নেতা কে হবেন—সে বিষয়েও প্রভাব রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি স্যাটায়ার নাকি আইরনি। তবে সমালোচকদের মতে, বিষয়টি মোটেও রসিকতার নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলায় ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এখন যদি ওই দেশগুলোই ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে চায়, তাহলে তা ইরানের জনগণের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

হোয়াইট হাউসের একটি ইভেন্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া রয়েছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত থাকতে চায় এবং সেই প্রক্রিয়ায় তাদেরও ভূমিকা থাকা উচিত।

সমালোচকরা বলছেন, যে দেশটিতে বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এবং যার সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার ফলেই নিহত হয়েছেন, সেই দেশের নতুন নেতা নির্বাচনেও যদি ওই হামলাকারী দেশগুলো ভূমিকা রাখতে চায়—তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, ভবিষ্যতে যে ব্যক্তি ইরানকে নেতৃত্ব দেবেন তাকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরও মতামত থাকা উচিত। যদিও ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোস্তফা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প এই সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন। তার দাবি, মোস্তফা খামেনির নেতৃত্বে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এতে অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প কি ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাব্য তালিকাও তৈরি করে ফেলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন অনেক এলিট ব্যক্তি রয়েছে। এমনকি তিনি ইরানের সাবেক রাজতন্ত্রের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির নামও উল্লেখ করেন।

এতে সমালোচকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ইরানের জনগণ এবং কিছু প্রবাসী নেতাকে পাশে রেখে যুক্তরাষ্ট্র কি নিজেও ইরানের নেতৃত্ব নির্ধারণে ভোট দিতে চায়?

এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা ইরানের কুর্দি বাহিনী যদি ইরানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়, তাহলে সেটি “ওয়ান্ডারফুল” বিষয় হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ হতে পারে চলমান যুদ্ধের মাঝখানে আবার গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করা। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী এক হাজারেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের মধ্যেও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে ফোন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প তাদেরকে জবাব দিয়েছেন—“ইটস টু লেট।”

তবে ইরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নয় এবং তারা ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

আরেকটি বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের আইআরজিসি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন অস্ত্র ফেলে দেয়। যদি তারা বিদ্রোহ করে এবং পক্ষত্যাগ করে, তাহলে তাদেরকে ইমিউনিটি দেওয়া হবে।

এ নিয়ে অনেকেই আফগানিস্তানের ঘটনার কথাও স্মরণ করছেন। সে সময় যারা মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল তাদেরও নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে হঠাৎ মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার সময় দেখা যায় অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় বিমানের চাকার সঙ্গে ঝুলে পড়েছিল।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। কে সত্য বলছে, কে কৌশল চালছে আর কে কার কৌশলে ফাঁদে পড়ছে—তা সময়ই বলে দেবে।

Source: newsalap

*

إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم