![]() |
| ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর ভিন্ন অবস্থান। |
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত এখন শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে—কে কার পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ টানা চতুর্থ দিন চলছে। গত তিন দিনে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ এখন শুধু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, লেবাননসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। শুরুতেই এসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হলেও এখন বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তেহরানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এছাড়াও ইরানে নিহত হয়েছে ছয় শতাধিক মানুষ। টানা পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো নিজ নিজ অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। কেউ কেউ সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে, আবার কেউ সতর্ক সমর্থন দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। এর আগে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিলেও এবারের সরকারের বিবৃতি ভিন্ন। তারা বলছে, যুক্তরাজ্য আঞ্চলিক যুদ্ধ দেখতে চায় না। ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া উচিত নয়। আর এ কারণে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে ক্রমাগত সমর্থন করে যুক্তরাজ্য।
ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া। দেশটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ হামলাকে জাতিসংঘভুক্ত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত সশস্ত্র আগ্রাসন বলে আখ্যায়িত করেছে।
তেল বাণিজ্যের দিক থেকে ইরানের ঘনিষ্ঠ চীনের অবস্থান নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, এ উত্তেজনা সবার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এটি আর বাড়তে দেওয়া যায় না।
বিবৃতি দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন। তিনি বিবাদমান সব পক্ষকে সংযম পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষদের রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত।
নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে কানাডা। এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এবং দেশটির শাসন কাঠামো যেন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আর হুমকি হয়ে না ওঠে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন দেবে কানাডা।
অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে দেশটি সমর্থন করে। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবে না তার দেশ।
এদিকে ইরানের উপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে অবৈধ আগ্রাসন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই আগ্রাসনকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করা একটি দীর্ঘদিনের প্রথা। খামেনির হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের শোকাতুর মানুষের পাশে আছে।
ইরানে যুদ্ধ এবং হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় নিশ্চুপ রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। তবে ইরানের হামলার তিন দিন পর সোমবার ভারত সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে নরেন্দ্র মোদি সংক্ষেপে বলেছেন, ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত থামানো না গেলে তা বিশ্ব শান্তির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, কোনো সশস্ত্র সংঘাতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি মূল্য দেয়। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনে বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
Source: NTV Online
